প্রশ্নঃ
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হযরতওয়ালা! স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় কী? বর্তমানে অনলাইনে আমি একটি আরবী কোর্স করতেছি; তাই পুরোপুরি ত্যাগ করে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ আপনাকে নেক হায়াত দান করুক।🩵
উত্তরঃ
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী!
বর্তমান যুগে স্মার্টফোন একটি বড় নিয়ামত, আবার নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের কারণে এটি অনেকের জন্য বড় ফিতনাও হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্মার্টফোন নিজে খারাপ নয়; বরং এর সঠিক ব্যবহার ইবাদতেও পরিণত হতে পারে। কিন্তু উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং, অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করা এবং গুনাহের পথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই সফল হয়েছে মুমিনগণ, যারা অনর্থক কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখে। (সূরা আল-মুমিনূন, ২৩:১–৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, মানুষের ইসলামের সৌন্দর্যের একটি দিক হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিহার করে।- (জামে তিরমিযি, হাদিস: ২৩১৭)
স্মার্টফোন আসক্তি থেকে বাঁচার জন্য কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে:
প্রথমত, ফোন হাতে নেওয়ার আগে নির্ধারণ করুন, কী কাজের জন্য ফোন ব্যবহার করবেন। উদ্দেশ্যহীনভাবে ফোন আনলক করবেন না।
দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় ব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার আলাদা করুন। দ্বীনি পড়াশোনা, অনলাইন আরবি কোর্স, কুরআন শিক্ষা বা জরুরি যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করুন; কিন্তু অযথা ভিডিও দেখা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।
তৃতীয়ত, যে অ্যাপগুলো আপনাকে বেশি সময় নষ্ট করায়, সেগুলো মুছে ফেলুন অথবা ব্যবহার সীমিত করুন।
চতুর্থত, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং দিনে নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ফোন চেক করবেন না।
পঞ্চমত, ঘুমানোর আগে এবং ঘুম থেকে উঠেই ফোন ব্যবহার করার অভ্যাস ত্যাগ করুন। দিনের শুরু হোক আল্লাহর যিকির, দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াত দিয়ে।
ষষ্ঠত, পড়াশোনা, ইবাদত বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোন নিজের কাছ থেকে দূরে রাখুন।
সপ্তমত, অবসর সময়কে উপকারী কাজে ব্যয় করুন। কুরআন তিলাওয়াত, আরবি চর্চা, ইসলামি বই পড়া, যিকির, ব্যায়াম ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভালো বিকল্প না থাকলে ফোনের টান কমানো কঠিন।
অষ্টমত, প্রতিদিন নিজের হিসাব নিন, আজ ফোনে কত সময় কাটালেন এবং তার কতটুকু সত্যিই প্রয়োজন ছিল।
নবমত, বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার ও দোয়া করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর যারা আমার পথে সাধনা করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহ দেখিয়ে দিই।- (সূরা আল-আনকাবূত, ২৯:৬৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দুইটি নিয়ামতের ব্যাপারে অনেক মানুষ প্রতারিত—সুস্থতা ও অবসর।-(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)
আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা সরবে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন কোথায় ব্যয় করেছে এবং তার যৌবন কী কাজে অতিবাহিত করেছে—এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।-(জামে তিরমিযি, হাদিস: ২৪১৭)
অতএব, স্মার্টফোনকে নিজের মালিক বানাবেন না; বরং এটিকে নিজের খাদেম বানান। এমনভাবে ব্যবহার করুন, যাতে এটি আপনাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সাহায্য করে, আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়।
والله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে… শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী