ঠিকানা: গেরুয়া, ডেইরি ফার্ম, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা।
১৯৯২ ইংরেজি সালে অত্র এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার মরহুম আব্দুল কাদের এবং রত্নগর্ভা মাতা আনোয়ারা বেগমের জ্যেষ্ঠ পুত্র, পরিবহন সেক্টরের জননন্দিত ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ছাদিকুর রহমান হিরু সাহেব, তাঁর মাতা এবং ভাই-বোনেরা মিলে মাদরাসা নির্মাণের জন্য ভূমি দান করেন।
পরবর্তীতে মাদরাসার পরিসর দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকলে এলাকার আরও ১৫–২০ জন ব্যক্তি ১–২ শতাংশ করে প্রায় ২০ শতাংশ জমি দান করেন। বর্তমানে প্রায় ৬ বিঘা জমির বিশাল এলাকাজুড়ে ঢাকা জেলার সাভারের অন্যতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ **দারুল উলূম মাবিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা** গড়ে উঠেছে।
হিরু সাহেবের পরিবার এবং এলাকার দানশীল ব্যক্তিবর্গের মুক্তহস্তে দানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুদৃশ্য ভবনসমূহ নির্মিত হয়েছে। একই সঙ্গে নান্দনিক নকশার স্থাপনা, সুউচ্চ মিনারবিশিষ্ট মাদরাসা কমপ্লেক্স, জামে মসজিদ এবং পরিচ্ছন্ন অজুখানা প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
সুবিশাল ক্যাম্পাসের পাশেই রয়েছে ৫০ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত **বেগম আনোয়ারা খাতুন কবরস্থান**। এ কবরস্থানের জমি বেগম আনোয়ারা খাতুন ক্রয় করে ওয়াক্ফ করে দেন। এছাড়া মাদরাসার স্টাফ কোয়ার্টার ও মার্কেট নির্মাণের জন্য প্রায় আড়াই শতাংশ জমি রয়েছে।
মাদরাসা কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে মহিলা মাদরাসা ও অনাবাসিক নূরানি শাখার জন্য ২৬ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ জমি সিলেট নিবাসী জনাব এম. এ. মালেক সাহেব মাদরাসার জন্য দান করেন।
প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে সাভারের প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটের পাশে ৬ তলাবিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন।
এখানে মানসম্মত নূরানি-মক্তব, নাজেরা, আন্তর্জাতিক মানের হিফজুল কুরআন, হিফজ রিভিশন এবং কিতাব বিভাগে ফযিলত ২য় বর্ষ (মিশকাত) পর্যন্ত অত্যন্ত সুন্দর ও নিরিবিলি পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম সুচারুরূপে পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়াও নূরানি তা’লীমুল কুরআন বোর্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের অধীনে প্লে থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত (পর্যায়ক্রমে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত) ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনাবাসিক একাডেমি শাখা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ শাখা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং বোর্ড পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান অর্জনসহ শতভাগ সফলতা অর্জন করেছে।
জ্ঞান বিকাশের জন্য রয়েছে দরসে নেযামির পাঠ্যপুস্তক ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমৃদ্ধ সুবিশাল কুতুবখানা। ছাত্রদের প্রতিভা বিকাশের জন্য রয়েছে **”মরহুম আব্দুল কাদের” ইসলামী পাঠাগার**, যেখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান লেখকদের রচিত অসংখ্য গ্রন্থ ও পুস্তিকা সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে **”আস-সাদিক”** দেয়ালিকা।
আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং এলাকাবাসীসহ দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী ও দ্বীনদরদি মুসলিম ভাই-বোনদের আন্তরিক দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতায় মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে ২৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার তত্ত্বাবধানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে অবস্থানকারী ছাত্রসংখ্যা প্রায় ২০০ জন। তাদের মধ্যে অনেক এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষার মান বিবেচনায় ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা জেলার সাভারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পথে। সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে, ইনশাআল্লাহ অদূর ভবিষ্যতে এটি একটি আদর্শ মডেল দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।
তাই আপনাদের সন্তানকে আদর্শ মুসলিম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অত্র প্রতিষ্ঠানে নিশ্চিন্তে ভর্তি করাতে পারেন।
যেসব দ্বীনদরদি মুসলিম ভাই-বোন দেশ-বিদেশ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, তাঁদের সকলের ইহকাল ও পরকালের শান্তি, কল্যাণ এবং কামিয়াবি কামনা করে প্রতিদিন নির্ধারিত আমলের পর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়।
বর্তমানে মাদরাসা পরিচালনা ও মুহতামিমের দায়িত্বে রয়েছেন এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও আস্থাভাজন ব্যক্তিত্ব **মুফতি গাজী সিদ্দীকুর রহমান এম.এ.।
এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক শিক্ষাব্যয়, মাসিক খাদ্যব্যয়, ভরণ-পোষণ এবং কিতাব ক্রয়ের জন্য লিল্লাহ তহবিলে দান করে সদকায়ে জারিয়ায় শরিক হওয়ার জন্য আপনাদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল নেক আমল কবুল করুন এবং সবাইকে ইহকাল ও পরকালে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।
## অনুদান পাঠানোর ঠিকানা
**চলতি হিসাব নং:** ০২০০০০১৭৩৯৩০৭
**অগ্রণী ব্যাংক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা**
এছাড়াও মাদরাসার রকেট ও বিকাশ অ্যাকাউন্টে খুব সহজেই অনুদান পাঠানো যাবে।
**বিকাশ/রকেট:** ০১৯২২-৭৭২৬৪৬
মুফতী গাজী সিদ্দীকুর রহমান এম.এ
মুহতামিম